বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারের নিরাময় পদ্ধতি বিভিন্ন ধরণের। স্তন্য ক্যান্সার হচ্ছে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ক্যান্সার যা নিরাময় করাটা কঠিন। ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং এপিডারমাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর ২ (HER2) এই ৩ টি উপাদানের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে ব্রেস্ট ক্যান্সারকে শ্রেণী বিভক্ত করা হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, গবেষকেরা স্তন্য ক্যান্সার নিরাময়ের প্রাকৃতিক উপাদান খুঁজে পেয়েছেন। আর সেই ঘরোয়া উপাদানটি হচ্ছে কাঁচামরিচ।
এছাড়াও কাঁচামরিচে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং এতে রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান ও বিদ্যমান। কাঁচামরিচ ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রন এ সমৃদ্ধ। ফ্রি র্যাডিকেলের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করে কাঁচামরিচ। কাঁচামরিচের ক্যান্সার নিরাময়ে সাহায্য করে যেভাবে :
টিআরপি চ্যানেল
ক্যাপসাইসিন নামক সক্রিয় উপাদান থাকে কাঁচামরিচে যা ক্যান্সার কোষের উপর প্রভাব সৃষ্টি করে। গবেষণামতে বিভিন্ন সম্ভাব্য অস্থায়ী রিসেপ্টর (TRP) চ্যানেলের প্রভাব ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির উপর পড়ে। টিআরপি চ্যানেলগুলোকে ঝিল্লিময় আয়ন চ্যানেলের উদ্দীপনার দ্বারা প্রভাবিত করা যেতে পারে।
ক্যাপসাইসিন এর প্রভাব
ক্যাপসাইসিন কোষের মৃত্যুর উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে। এটা শুধু ব্রেস্ট ক্যান্সারই নয় কোলন ক্যান্সার ও অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার নিরাময়েও সাহায্য করতে পারে।
অলফ্যাক্টরি রিসেপ্টর
এটি এমন এক ধরণের প্রোটিন যা ছোট অণুগুলোকে একসাথে আবদ্ধ করতে পারে। এটি ক্যাপসাইসিনের দ্বারাই সক্রিয় হয়। গবেষণায় এটা জানা গেছে যে, টিআরপি চ্যানেল সক্রিয় হওয়ার পরে ক্যান্সার কোষ এবং অনেক বেশি সংখ্যক টিউমার কোষ ও মারা যায়।
ব্রেস্ট ক্যান্সার
চূড়ান্তভাবে গবেষণা শেষে এটাই বলা হয় যে, খাবারের মাধ্যমে বা শ্বাসের মাধ্যমে ক্যাপসাইসিন গ্রহণ করাই ক্যান্সার কোষ নিরাময়ের জন্য যথেষ্ট।
গাজর একটি স্বাস্থ্যকর সবজি। গাজর ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিন এ ভরপুর থাকে। পুষ্টিতে সমৃদ্ধ গাজরের স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রচুর। গাজর কাঁচা, সিদ্ধ বা রান্না করেও খাওয়া যায়। গাজরের কয়েকটি স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত প্রণালী জেনে নিই চলুন।
১। ক্যারট রাইস
চুলায় মাঝারি আঁচে একটি পাত্র বসান। পাত্রে সামান্য তেল দিন। এবার এতে বুটের ডাল, মটরের ডাল, সরিষা বীজ এবং জিরা দিন। এর মধ্যে কারী পাতা ও এক কাপ গাজর কুচি যোগ করুন। অল্প আঁচে ৫ মিনিট রান্না করুন। লবণ ও হলুদ যোগ করুন। এবার এর মাঝে ভাত যোগ করুন। ৩ মিনিট রান্না করুন। সবশেষে ধনে পাতা যোগ করুন এবং গরম গরম পরিবেশন করুন ক্যারট রাইস।
২। গাজরের স্যুপ
টুকরো করা গাজর ও ভেজিটেবল স্টক ব্লেন্ডারে নিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। একটি পাত্রে তেল গরম করে নিন। গরম তেলে পেঁয়াজ কুঁচি, আদা কুঁচি, সেলেরি ডাঁটা কুঁচি ও অরিগেনো যোগ করুন। গাজর ও ভেজিটেবল স্টক এর মিশ্রণটিতে লবণ ও মরিচ যোগ করুন। এবার ১০ মিনিট রান্না করুন। তারপর রান্না করা সবজিগুলো ব্লেন্ডারে দিন এবং এর সাথে সিদ্ধ আলু যোগ করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এবার ধনেপাতা যোগ করে গরম গরম পরিবেশন করুন।
৩। ক্যারট অ্যাপল স্যান্ডউইচ
১ টি আপেল ও আধা কাপ গাজর কুঁচি করে নিন। একটি পাতলা সুতি কাপড়ের মধ্যে ৫-৬ টেবিল চামচ দই নিয়ে কাপড়টি পুঁটলির মত করে একঘন্টা ঝুলিয়ে রেখে দিন যাতে দই থেকে পানি আলাদা হয়ে যায়। আপেল ও গাজর কুঁচির সাথে লবণ, মরিচ, দই ও অরিগেনো দিয়ে ভালো করে মিশান। এবার পাউরুটির টুকরায় মাখন লাগান এবং সবজি ও ফলের মিশ্রণটি দিয়ে উপরে আরেকটি পাউরুটির টুকরা যোগ করুন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল ক্যারট অ্যাপল স্যান্ডউইচ।
৪। ওটস ও গাজরের ক্ষীর
৪ টেবিল চামচ ওটস ও ৭-৮ টি কিশমিশ আধা কাপ দুধে ভিজিয়ে রাখুন। ১ কাপ দুধ ও একটি গাজরের অর্ধেক অংশ একসাথে মিশিয়ে ৫ মিনিট সিদ্ধ করুন। এখন এর মধ্যে ভেজানো ওটস ও কিশমিশ দিয়ে ৫ মিনিট রান্না করুন। এক চিমটি এলাচ গুঁড়া ও ৩-৪ টি কাঠ বাদাম যোগ করে গরম গরম পরিবেশন করুন। ৫। গাজরের কেক
প্রথমেই ওভেনকে ২০০ ডিগ্রী তাপে প্রিহিট করে নিন। বেকিং ডিশে অল্প বাটার লাগিয়ে নিন। ৩০ গ্রাম গাজর কুঁচি, ১৫ গ্রাম ময়দা, ১ চা চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ পরিমাণ বেকিং পাউডার, ১ চা চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ পরিমাণ বেকিং সোডা, ১ চা চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে নিন। ২ টা ডিমের সাদা অংশ ফেটিয়ে নিন। ১ টেবিল চামচ দুধ ও ভেনিলা এক্সট্রাক্ট নিন। ভেজা ও শুকনো সবগুলো উপাদান একসাথে মিশিয়ে বাটার লাগিয়ে রাখা বেকিং ডিশে ঢালুন। প্রিহিট করে রাখা ওভেনে দিয়ে ১৫ মিনিট বেক করুন। ওভেন থেকে বের করে ৫ মিনিট পরে পরিবেশন করুন গাজরের কেক।
অস্থিসন্ধি আপনার শরীরের অত্যন্ত চমৎকার একটি অংশ। এদের কারণেই আপনি দৌড়াতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন, সাইকেল চালাতে পারেন এবং ঘরের নানা প্রকারের কাজ করতে পারেন। বেশীরভাগ মানুষই জয়েন্টের বিষয়ে তেমন কোন গুরুত্ব দেন না যতক্ষণ না জয়েন্টে ব্যথা হয়, ফুলে যায় বা শক্ত হয়ে যায়। বয়স বৃদ্ধি পেলে বা অসুখের কারণে জয়েন্টের সমস্যা দেখা দেয়। জয়েন্টের এই সমস্যাগুলোর উন্নতি ঘটানো যায় খাবারের মাধ্যমে। সেই খাবারগুলোর কথাই আজ আমরা জানবো।
১। সাইট্রাস ফল
আপনি যদি আপনার শরীরের জয়েন্টগুলোকে সুস্থ রাখতে চান তাহলে বিভিন্ন প্রকারের সাইট্রাস ফল যেমন- কমলা, আঙ্গুর, লেবু, জাম্বুরা, আনার, জাম ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খাওয়া উচিৎ আপনার। এই ফলগুলো ভিটামিন সি তে সমৃদ্ধ এবং এগুলোতে অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান থাকার পাশাপাশি কোলাজেন তৈরিতেও সাহায্য করে। কোলাজেন এমন একটি উপাদান যা জয়েন্টের গঠনে ও জয়েন্টকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। তাই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই খাবারগুলো খেলে অস্থিসন্ধি ভালো থাকে এবং অস্থির সমস্যায় আরাম পাওয়া যায়।
২। লাল মরিচ
লাল মরিচে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন সৃষ্টিতে সাহায্য করে যা কার্টিলেজ, টেন্ডন ও লিগামেন্টের অংশ। কার্টিলেজ, টেন্ডন ও লিগামেন্ট জয়েন্টকে একসাথে ধরে রাখতে সাহায্য করে।
৩। আখরোট
আপনি যদি মাছ বা মাংস ছাড়া ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড পেতে চান তাহলে আপনাকে আখরোট খেতে হবে। এই অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড জয়েন্টের প্রদাহ কমতে সাহায্য করে। আখরোট উদ্ভিজ প্রোটিনের চমৎকার উৎস। ওটমিল বা ময়দার সাথে আখরোটের গুঁড়া মিশিয়ে চমৎকার মাফিন তৈরি করা যায়।
৪। শশা
শশাকে খুবই সাধারণ খাবার মনে হতে পারে। কিন্তু এতে ফাইবার, পানি, ভিটামিন ও খনিজের উপস্থিতি ও বিদ্যমান। শশাতে সিলিকা থাকে যা জয়েন্টকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
৫। কারি ডিশ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রচলিত মাংস ও সবজি দিয়ে রান্না করা তরকারি যেমন জনপ্রিয় তেমনি স্বাস্থ্যকরও বটে। কারণ এটি রান্নার সময় বিভিন্ন ধরণের মসলা ব্যবহার করা হয় যার মধ্যে হলুদ অন্যতম। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, হলুদে কারকিউমিন নামক অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান থাকে যা জয়েন্টের ব্যথা, ফোলা ও কাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
৬। ওটমিল
ইনফ্লামেশনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ওটমিল। অন্যদিকে ময়দার ঠিক বিপরীত প্রভাব দেখা যায়। বাদামী চাল এবং বার্লির ও ওটমিলের মত গুণ আছে যা জয়েন্টের জন্য উপকারি।
কিন্তু কোন এক প্রকারের খাবার খেয়ে জয়েন্টকে সুস্থ রাখা সম্ভব নয়। সুষম খাদ্যের পাশাপাশি ব্যায়াম এবং সঠিক যত্নই আপনার জয়েন্টগুলোকে ঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে।
করল্লা নামটা শুনলেই অনেকের চোখেমুখে বিরক্তির ছায়া ফুটে ওঠে। তেতো এই সবজিটিকে খুব সাবধানে এড়িয়ে চলেন অনেকে। ভুলেও মুখে তোলেন না করল্লার তরকারি। কিন্তু তারা কি জানেন এই করল্লার অসাধারণ সব স্বাস্থ্যগুণ? চলুন দেখে নিই অবহেলার এই সবজিটি আসলে আমাদের জন্য কতো উপকারী।
১) ফুসফুসের সমস্যা সমাধান
অ্যাজমা এবং সাধারণ সর্দিকাশির সমস্যা দূর করতে করল্লা সহায়ক। শুধু তাই নয়, করল্লার পাতা এবং তুলসি পাতার পেস্ট সকালে মধুর সাথে খেলে তা এসব সমস্যা কমিয়ে আনে।
২) লিভার সুস্থ রাখে
প্রতিদিন এক গ্লাস করল্লার জুস লিভারের সমস্যা দূর করে। টানা এক সপ্তাহ পান করলে সুফল পাবেন।
৩) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে করল্লা। করল্লা বা করল্লার পাতা সেদ্ধ করা পানি পান করুন প্রতিদিন। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কার্যকরী।
৪) ব্রণের সমস্যা দূর
ব্রণ, ত্বকের দাগ এবং ত্বকের ইনফেকশন দূর করতে কাজে আসতে পারে করল্লা। স্ক্যাবিস, রিংওয়ার্ম এবং সোরিয়াসিসের সমস্যাতেও এটি কার্যকর।
৫) ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিসের জন্য করল্লা বেশ উপকারী। ইনসুলিনের মতো একটি উপাদান থাকার কারণে ব্লাড সুগার কমিয়ে আনতে সক্ষম করল্লা। আপনি যদি সুগার নিয়ন্ত্রণে আসার জন্য ওষুধ খান তাহলে করল্লা খাওয়ার ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, নয়তো সুগার বেশি কমে যেতে পারে।
৬) কোষ্ঠকাঠিন্য
করল্লায় অনেকটা ফাইবার থাকার কারণে এটি হজমে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
৭) কিডনি এবং ব্লাডার সুস্থ রাখে
কিডনি ও ব্লাডারের সার্বিক সুস্থতার জন্য খেতে পারেন করল্লা। এছাড়া কিডনি স্টোন সমস্যাতেও কাজে আসতে পারে করল্লা।
৮) হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
বেশ কিছু দিক দিয়ে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে করল্লা। খারাপ ধরণের কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় করল্লা। এছাড়াও ব্লাড সুগার লেভেল কমায় বলে এর কারণে হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে।
৯) ক্যান্সারের চিকিৎসা
ক্যান্সারের গ্রোথ কমাতে সাহায্য করতে পারে করল্লা। মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের গ্রোথ কমাতে করল্লার নির্যাস কাজে আসে বলে জানা গেছে গবেষণায়। এছাড়া অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের মেটাবলিজমে বাধা দেয় করল্লা।
১০) ওজন নিয়ন্ত্রণ
করল্লায় আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীর থেকে টক্সিক দূর করে। এটা মেটাবলিজম এবং হজমে সহায়ক, ফলে দ্রুত ওজন কমে। ১০০ গ্রাম করল্লায় মাত্র ১৭ ক্যালোরি থাকে এবং ফাইবার থাকে অনেক বেশি ফলে তা পেট ভরা রাখে।
করল্লা যদি বেশি তেতো মনে হয়, তাহলে দুইটি উপায়ে তেতো ভাব কমাতে পারেন। করল্লা কেটে লবণ মাখিয়ে রেখে দিন কমপক্ষে ১০ মিনিট। এরপর ধুয়ে রান্না করুন। অথবা অল্প লবণ দেওয়া পানিতে দুই মিনিট সেদ্ধ করে নিলেও এর তেতো ভাবটা কিছুটা কমে আসবে।
বিভিন্ন ধরণের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, ফ্ল্যাভানয়েড, ফলেট, ভিটামিন সি, বি কমপ্লেক্স ইত্যাদি আছে এতে। আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন অসুখ উপশম করতেও এটি উপকারী। এবার ভেবে দেখুন, এসব জানার পরেও কি আপনি করল্লাকে এড়িয়ে যাবেন?
লিখেছেন
কে এন দেয়া
অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, প্রিয় লাইফ
প্রিয়.কম
রমজান মাসে রোজা রাখার ধর্মীয় গুরুত্বের কথা বেশীরভাগ মানুষ জানলেও এর স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা খুব কম মানুষই জানে। যদি সঠিকভাবে রোজা পালন করা হয় তাহলে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য হতে পারে অনেক উপকারি। চলুন জেনে নেয়া যাক রোজা রাখার অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা। ১। ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে
বিভিন্ন ধরণের প্রক্রিয়াজাত খাবারের মান বাড়ানোর জন্য ও সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন উপাদান যোগ করা হয়। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে টক্সিন জমা হতে থাকে। এদের কোন কোনটি অ্যাডভান্স গ্লাইকেশন ইন্ড প্রোডাক্ট(AGEs)এর উৎপাদনকে উৎসাহিত করে। এই ধরণের টক্সিনগুলোর বেশির ভাগই চর্বিতে জমা হয়। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে অর্থাৎ রোজা রাখলে এই চর্বিগুলো পুড়ে কমতে থাকে। ফলে টক্সিনগুলো দেহ থেকে বাহির হয়ে যায়। ২। প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়ার সমাধান করে
কিছু গবেষণায় জানা গেছে যে, রোজা থাকলে প্রদাহজনিত রোগ যেমন- রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস, সোরিয়াসিস ইত্যাদি ও অ্যালার্জির সমস্যার সমাধানকে উৎসাহিত করে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে আলসারেটিভ কোলাইটিসের নিরাময়ে সাহায্য করে রোজা। ৩। রক্তে চিনির পরিমাণ কমায়
রোজা রাখলে গ্লুকোজ ভাঙ্গার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যার ফলে শরীর এনার্জি পায়। ইনসুলিনের উৎপাদন কমায়। ফলে অগ্নাশয় বিশ্রাম পায়। গ্লুকোজের ভাঙ্গনে সাহায্য করে গ্লুকাগন। রোজা রাখলে রক্তের চিনির পরিমাণ কমতে থাকে।
৪। পরিপাক প্রক্রিয়ার বিশ্রাম হয়
রোজা রাখলে পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গের বিশ্রাম হয়। সাধারণ শারীরবৃত্তীয় কাজগুলো বিশেষ করে পাচক রস নিঃসরণ হয় তবে কম পরিমাণে হয়। ফলে খাবার আস্তে আস্তে ভাঙ্গে। শক্তির নিঃসরণও হয় ধীর গতির। কিন্তু পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণ বন্ধ হয়না। তাই পেপটিক আলসারের রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়।
৫। উচ্চ রক্তচাপ কমতে সাহায্য করে
ধমনীতে চর্বি জমলে এথেরোসক্লেরোসিস হয়। রোজা রাখলে এথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকি কমে। রোজা রাখলে শরীরের গ্লুকোজ ও জমাকৃত চর্বি ভেঙ্গে শক্তি নির্গত হয়। রোজা রাখলে বিপাকের হার কমে যায়। এড্রেনালিন ও ননএড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ কমে। এরা বিপাকের হার স্থির ও সীমিত রাখে। ফলে উচ্চ রক্তচাপও কমে।
৬। ওজন কমায়
রোজা রাখলে দেহের ওজন কমে। রোজা রাখলে শরীরে চর্বির পরিমাণ কমে। ইফতারিতে তৈলাক্ত ও চিনি জাতীয় খাবার কম খেয়ে ফল খেতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। যেহেতু চর্বি হচ্ছে এনার্জির প্রধান উৎস। তাই রোজা রেখে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করলে চর্বি ভেঙ্গে শক্তি নির্গত হবে।
৭। আসক্তি মুক্ত হতে সাহায্য করে
বিভিন্ন ধরণের বদঅভ্যাস যেমন- ধূমপান, মদ্যপান, ক্যাফেইন থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে রোজা। যেহেতু রোজা রেখে দিনের বেলায় কিছু খাওয়া যায়না তাই এই বদঅভ্যাসগুলো থেকে সরে আসা সহজ হয়। দীর্ঘ একমাস সংযমের মধ্য দিয়ে কাটানোর ফলে যে কোন বদঅভ্যাস থেকে মুক্ত হওয়া সহজ হয়।
যেহেতু রোজা রাখলে সারাদিনে খাবার ও পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয় তাই শরীরে পানি শূন্যতার সৃষ্টি হতে পারে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তাদের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ইফতার ও সেহেরীতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিৎ।
রাতের বেলা ঘন্টার পর ঘন্টা বিছানায় ছটফট করতে হচ্ছে ঘুমের জন্যে? এই একটু ঘুম আসি আসি করেও আবার নাই হয়ে যাচ্ছে? কী ভাবছেন? কেন এমনটা হচ্ছে আপনার? হ্যাঁ, এটা ঠিক যে রাতে ঘুম না আসার পেছনে অনেক রকমের কারণই থাকতে পারে। তবে এই কারণগুলোর ভেতরে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ যেটা সেটা হচ্ছে আপনার খাদ্যাভ্যাস। না জেনে না বুঝে ঘুমের আগে খাওয়া যে কোন খাবারই আপনাকে করে তুলতে পারে ইনসমোনিয়ার শিকার।
ঘুম মানুষের শরীরের অত্যন্ত প্রাথমিক আর দরকারি একটি প্রয়োজন যেটার অভাবে একজন মানুষের প্রতিদিনের কাজকর্ম বিঘ্নিত হতে বাধ্য। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ ঘন্টা না ঘুমালে সেটা আপনার মস্তিষ্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, খাবার যে কেবল আমাদের ঘুমকে কমিয়েই দেয় তা না, সেটাকে বাড়িয়েও তুলতে পারে। তাই আজ আপনাকে জানানচ্ছি এমন কিছু খাবারের কথা যেগুলো আপনার রাতের ঘুমকে করে তুলবে আরো মসৃণ আর আরামের।
১. কলা
ঠিক পড়েছেন। আমাদের হাতের কাছে থাকা সবসময় সহজলভ্য হিসেবে পরিচিত হলুদ ফল কলা আপনাকে এনে দিতে পারে আরো ভালো ঘুম। রাতে ঘুমের আগে কিছু যদি খাওয়ার ইচ্ছে হয় তাহলে একটা কলা খেয়ে নিন। কারণ, কলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম আর পটাশিয়াম। যেটা কিনা শরীরের মাংসপেশীগুলোকে শিথিল করে দেয়। এছাড়াও কলায় প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো এ্যাসিড ট্রিপটোফিন থাকে যেটা কিনা মস্তিষ্কের ভেতরে রিল্যাক্স ভাব আনতে পারা মেলাটোনিন আর সেরোটোনিন তৈরি করে।
২. কটেজ পনির
যদি রাতের বেলা বিকট সব দুঃস্বপ্নে আপনার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে উচ্চ প্রোটিন ও কম চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- কটেজ পনির বা ঘরে বানানো পনির খেয়ে দেখতে পারেন। কারণ এটি আপনার শরীরে এ্যাসিডের সমস্যা দূর করে শান্তির ঘুম আনতে সাহায্য করে। এছাড়াও পনিরে থাকা ক্যালসিয়াম মেলাটোনিন উত্পন্ন করার মাধ্যমেও ঘুমকে করে তোলে আনন্দময়।
৩. টোস্ট
এটা তো সবারই কম বেশি জানা যে একটু ভারী খাবার খাওয়ার পর শরীর একটু হলেও ক্লান্ত হয়ে পড়ে আর চোখের পাতা নেমে আসতে চায়। তবে তাই বলে খুব বেশি ভারী খাবার রাতের বেনা আপনার শরীরে হজমের সমস্যা আর অস্থিরতার কারণও হয়ে দাড়াতে পারে। তাই রাতের বেলা ঘুমের আগে খিদে পেলে বা অনেক রাতে ঘুম না আসলে খানিকটা টোস্ট খেয়ে নিন। এতে করে পেট ভরবে, শর্করার দ্বারা শরীরের সুগারের মাত্রা বাড়ার মাধ্যমে ঘুমও ভালো হবে।
৪. ডিম
ঘরের ভেতরেই সবসময় মজুদ থাকা আরেকটি খাবার ডিম হতে পারে আপনার চোখে ঘুম এনে দেওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। বিশেষ করে রাতের বেলা হালকা ও একটু ভারি খাবার হিসেবে সেদ্ধ ডিম হতে পারে আপনার অন্যতম পছন্দ। প্রোটিন ছাড়াও ডিমের ভেতরে থাকা কোলিন, ফোলেটো, ভিটামিন ডি এক্ষেত্রে আপনার ঘুমকে আরো দ্রুত নামিয়ে আনতে বেশি সাহায্য করবে।
লিখেছেন-
সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি
ফিচার রাইটার, প্রিয়লাইফ
প্রিয়.কম